ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল সোসাইটির ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা সভা
ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল সোসাইটির ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা সভা
স্টাফ রিপোর্টার
দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক তৈরির লক্ষ্যে ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলগুলোকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলের মালিক ও প্রতিনিধিরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার মিরপুরল ১০ নাম্বার ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল সোসাইটির উদ্যোগে ‘ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দেশের বিভিন্ন জেলার বিআরটিএ-নিবন্ধিত ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলের মালিক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সারা দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধিত প্রায় ১৪৯টি ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩০টি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এসব প্রতিষ্ঠানকে বিআরটিএ অনুমোদন দিলেও দীর্ঘদিন ধরে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ খাতটি নানা দিক থেকে অবহেলিত ও সমস্যার মধ্যে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও যুগোপযোগী জাতীয় সিলেবাস, প্রশিক্ষণের মানদণ্ড, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের কাঠামো এবং আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকা জরুরি।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর আদলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা ও পরীক্ষার ব্যবস্থা আধুনিক করা হলে দক্ষ চালক তৈরির পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
সভায় ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার, তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সমন্বয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে চালকদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল সোসাইটির সভাপতি নুরুন্নবী শিমু, সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মেহেদী হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন উপদেষ্টা ও নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য দেন।
তারা ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ খাতের বর্তমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।
সড়ক নিরাপত্তায় প্রশিক্ষিত চালকের বিকল্প নেই বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ চালকের অদক্ষতা, অসচেতনতা ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা। তাই শুধু লাইসেন্স প্রদান নয়, লাইসেন্স দেওয়ার আগে চালককে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, একটি দক্ষ ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল শুধু গাড়ি চালানো শেখায় না; বরং একজন চালককে ট্রাফিক আইন, সড়ক শৃঙ্খলা, নিরাপদ ও প্রতিরক্ষামূলক ড্রাইভিং, পথচারীর অধিকার, যানবাহনের প্রাথমিক ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
বিআরটিএ ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা সভায় ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলগুলোকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার জন্য বিআরটিএ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলগুলোকে শক্তিশালী ও আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা গেলে দেশে দক্ষ চালকের সংখ্যা বাড়বে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
এজন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা।
তারা আশা প্রকাশ করেন, বিআরটিএ ও সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলগুলোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এতে একদিকে যেমন দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক তৈরি হবে, অন্যদিকে নিরাপদ সড়ক গঠনের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। সভায় সবার প্রত্যাশা—মানসম্মত প্রশিক্ষণ, দক্ষ চালক এবং সচেতন সড়ক ব্যবহারকারীর সমন্বয়েই গড়ে উঠবে নিরাপদ সড়ক।